Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the all-in-one-seo-pack domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the cps domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the sarabangla4 domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
‘রুচির দুর্ভিক্ষে’ মোড়া একুশে বইমেলা
Friday 01 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘রুচির দুর্ভিক্ষে’ মোড়া একুশে বইমেলা

আসাদ জামান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:৪৮

ঢাকা: অমর একুশে বইমেলার পঞ্চম দিন সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। ধুলামুক্ত ও ভিড়হীন মেলা থেকে তৃপ্তি নিয়েই বের হচ্ছিলাম। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসিসংলগ্ন অংশে ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে তখন কথা বলছিলেন কবি নাসির আহমেদ। সামনে জনা পাঁচেক লোক! তাতে কী, মনের মাধুরী মিশিয়ে কবি জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা বলে যাচ্ছিলেন তিনি।

বইমেলায় এ ধরনের গল্প প্রতিদিনই তৈরি হয়, তৈরি হবে। কাব্যের অলৌকিক মায়ার জগতে বিচরণশীল মানুষগুলো তাদের কাব্যপ্রতিভার নানা দিক তুলে ধরবেন ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে। আর কাব্যের প্রকৃত সমঝদার যারা, তারা বসে বসে শুনবেন! তাদের সংখ্যা পাঁচ বা তার কম হলেও ক্ষতি নেই। কিন্তু এবারের সমস্যাটা অন্য জায়গায়!

বিজ্ঞাপন

লেখক বলছি মঞ্চের উত্তর পাশে লাল-সবুজ কাপড় মুড়িয়ে বানানো হয়েছে টয়লেট আকৃতির বুথ, যা এর আগে কখনো কোনো মেলায় দেখা যায়নি। মঞ্চে ওঠার আগে লেখকরা ওই বুথে ঢুকে মেকআপ করবেন, নাকি বাচ্চাকে ব্রেস্টফিডিং করাবেন, নাকি ধূমপানমুক্ত বইমেলার গাম্ভীর্য রক্ষায় ওই বুথে গিয়ে ধূমপান সেরে আসবেন— তা পরিষ্কার নয়। মঞ্চের দক্ষিণ পাশেও লাল-সবুজ কাপড় দিয়ে ‘বেড়া’ তৈরি করা হয়েছে। অর্ধেক খোলা এই বেড়া কোন মহৎ উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে, সেটি বাংলা একাডেমিই ভালো বলতে পারবে। তবে লাল কটকটে কাপড়ের সঙ্গে সবুজ কাপড়ের এই সংমিশ্রণ যারা ঘটিয়েছেন, তাদের রুচির দৌড় যাত্রাপ্যান্ডেলের সীমানা যে অতিক্রম করতে পারেনি, তা হলফ করে বলা যায়।

আরও পড়ুন- মানোত্তীর্ণ সাহিত্যসৃষ্টির প্রতিভা ছিল রওশন আলী চৌধুরীর

লেখক বলছি মঞ্চের দুই পাশে এই সবুজ-লালের যন্ত্রণাই শেষ নয়। মঞ্চ ঘিরে যে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে, বইমেলার পঞ্চম দিনে এসেও তার বাঁশগুলো একেবারেই ‘ন্যাংটা’! সাধারণত ছোটখাটো আয়োজনেও প্যান্ডেলের বাঁশগুলো সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে করে আভিজাত্যের ছোঁয়া ও রুচিবোধের প্রকাশ ঘটে। কিন্তু বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় এখন পর্যন্ত আমলে নেয়নি।

বিজ্ঞাপন

‘লেখক বলছি’ মঞ্চ থেকে কয়েক মিটার দূরে টিএসসিসংলগ্ন প্রবেশপথেও লাল ও সবুজ রঙের দুই খণ্ড কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে টয়লেট আকৃতির আরেকটি বুথ! কাঁচা বাঁশ পুঁতে ঘেড়ের মতো তৈরি করা এ বুথের বাঁশগুলোও ‘উলঙ্গ’। ঠিক যেন পিছিয়ে থাকা জনপদে উন্মুক্ত টয়লেট! সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইনস্টিটিউটসংলগ্ন গেটেও অনুরূপ বুথ তৈরি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘মেলায় প্রবেশের সময় নারী দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশির জন্য প্রবেশপথে বুথ তৈরির কথা বলেছিল পুলিশ। কিন্তু সেটি যে এভাবে তৈরি করা হয়েছে, তা আমার জানা ছিল না। আগামীকালই এগুলো সরিয়ে ফেলব।’

উন্মুক্ত মঞ্চের বাঁশগুলো সাদা কাপড়ে না মোড়ানোর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওরা (হক ডেকোরেটর) ১৯৭৩ সাল থেকে বইমেলার কাজ করছে। এখনো যদি এসব বিষয় না বোঝে, তাহলে কেমনে কী হবে! কালই আমি ওদের সঙ্গে কথা বলব।’

মেলা প্রাঙ্গণের সবখানেই এমন অপ্রস্তুতির ছাপ। ছবি: প্রতিবেদক

শুধু প্রবেশপথ বা উন্মুক্ত মঞ্চের পাশে লালসালু মোড়ানো দৃষ্টিকটূ বুথ নয়, পুরো মেলা যেন রুচির দুর্ভিক্ষে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে বইমেলা শুরুর ১৫ দিন আগে বাংলা একাডেমির প্রবেশপথ, প্রাঙ্গণ, পুকুর পাড়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ পথ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা, শাহবাগ মোড়, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমির সামনের সড়কে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। মনীষীদের বাণীসম্বলিত ডিসপ্লে বোর্ড, তোরণ ও বইয়ের অনুকৃতিতে সাজানো হয় পুরো এলাকা। বইমেলা শুরুর আগেই পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। কিন্তু এবার এগুলোর ছিটে-ফোঁটাও নেই।

সাধারণত বইমেলা শুরুর দুই-তিন মাস আগে থেকেই ইভেন্ট থিম, ইভেন্ট নিমোনিক, ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটি, সাদৃশ্যপূর্ণ রঙ নির্দেশিকা বা কালার গাইডলাইন অ্যান্ড হারমনি, ক্রিয়েটিভ ভিজ্যুয়ালাইজেশন, থিমেটিক এক্সিকিউশন, ভেন্যু লেআউট ও গ্রাউন্ড প্রস্তুতি, বাংলা একাডেমির স্টল ডিজাইন, গেট ডিজাইন, ইভেন্ট ব্র্যান্ডিং, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঞ্চ ডিজাইন ও প্রস্তুতকরণ, বইমেলার ভেতরে চার থেকে পাঁচটি মঞ্চ প্রস্তুতকরণ, স্পনসর সমন্বয়, গ্রাউন্ড ম্যানেজমেন্টসহ সম্পূর্ণ অবকাঠামো ডিজাইন, এক্সিকিউশন স্পনসরদের স্বার্থ রক্ষা, বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় সাধন, থিমের ওপর ভিত্তি করে সৃজনশীল ইনস্টলেশন, পাবলিক ফাংশন ডিজাইন, প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ডিজাইন, ভিজিটর এনগেজমেন্ট প্ল্যানসহ সামগ্রিক প্রস্তুতি পর্ব শুরু করতে হয়। আর এ কাজগুলো করে থাকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো।

২০০৬ সাল থেকে অমর একুশে বইমেলার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পালন করেছে দেশের স্বনামধন্য তিন-চারটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি। ২০১৯ বইমেলার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পালন করে ‘নিরাপদ ইভেন্ট’, ২০২০, ২০২১ ও ২০২৩ সালে ‘ক্রসওয়াক’ এবং ২০২২ ‘সেমস’-এর মতো জায়ান্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে কোম্পানিগুলো। কিন্তু এবার বাংলা একাডেমি নিজেই বইমেলার অবকাঠামো নির্মাণসহ অঙ্গসজ্জা ও নান্দনিকতার কাজ করছে। আর এ কারণেই বইমেলার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দৈন্যদশার ছাপ দৃশ্যমান— এমনটিই মনে করছেন মেলায় আসা লেখক, পাঠক, দর্শনার্থী ও প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) জেনারেল ম্যানেজার এ কে এম কামরুজ্জামান সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও চেষ্টা করেছি আমাদের প্যাভিলিয়ন সুন্দর করে সাজাতে। আমাদের খামখেয়ালির কারণে যেন এত বড় একটা আয়োজন শ্রীহীন না হয়ে যায়, সেদিকে আমরা লক্ষ্য রেখেছি। আমাদের মতো অন্যরাও তাদের স্টল-প্যাভিলিয়নগুলো সুন্দর মতো সাজিয়েছে। কিন্তু বাংলা একাডেমির উদাসীনতা ও খামখেয়ালির কারণে মেলাটা কেমন যেন মরা মরা মনে হচ্ছে।’

বইমেলায় বইয়ের স্টল-প্যাভিলিয়নগুলো সৌন্দর্যমণ্ডিত হলেও বাংলা একাডেমির আয়োজনটুকুই শ্রীহীন, দৃষ্টিকটূ। ছবি: প্রতিবেদক

প্রথমার ম্যানেজার জাকির হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘মেলার যে কাজটুকু আমাদের, সেখানে কোনো ত্রুটি খুঁজে পাবেন না। বরং অন্য বছরের চেয়ে এবার আরও সুন্দর করে সবকিছু উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু মেলার বাইরে ও আশপাশের অবস্থা খুবই নাজুক। মেলা কর্তৃপক্ষ যে কী করছে, তা বুঝে উঠতে পারছি না।’

ধানমন্ডি থেকে বইমেলায় আসা সাদ আন নাফি নুহ্ সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে টিএসসি এলাকায় এলেই বইমেলার আমেজ পাওয়া যেত। এবার ভেতরে ঢোকার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বোঝার উপায় নেই যে এখানে মেলা হচ্ছে।’

এই হতশ্রী অবস্থার কারণ জানতে চাইলে কে এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দোয়েল চত্বরে এবার আমরা তোরণ করতে পারিনি। কারণ, ওখানে ঢাকা গেট সংস্কার করা হয়েছে। তোরণ করলে ওটা আড়াল হয়ে যাবে। মেট্রোরেলের কারণে টিএসসি এলাকায় তোরণ করা যায়নি। আর পুরো এলাকা সাজানোর জন্য ছোট ছোট যেসব ডিসপ্লে বোর্ডের কথা বলছেন, ওগুলো আমরা তৈরি করে ফেলেছি। খুব শিগগিরই লাগিয়ে ফেলব।’

সারাবাংলা/এজেড/টিআর

অমর একুশে বইমেলা অমর একুশে বইমেলা ২০২৪ বইমেলা বইমেলা ২০২৪ বাংলা একাডেমি

বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ

ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের আহ্বান বিএনপির
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪৫

সম্পর্কিত খবর