Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the all-in-one-seo-pack domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the cps domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the sarabangla4 domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170
‘নিজেদের পরিবারকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে’
Wednesday 12 Aug 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘নিজেদের পরিবারকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ মার্চ ২০২৪ ১৯:৩৯

চট্টগ্রাম ব্যুরো: মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের পরিবারকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনায় গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

শনিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নগরীর আকবর শাহ থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনের পর ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে’ তিনি এ আহ্বান জানান।

চেতনা না থাকলে দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকবে না মন্তব্য করে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য যা যা দরকার তার সবই করব। চেতনা যদি না থাকে, তাহলে দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকবে না, টান থাকবে না। যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাদের পরিবারকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সন্তানেরা আমাদের আদর্শে বাঁচবে। অন্যের আদর্শে না। আমাদের পরিবারকে নিজেদের আদর্শে গড়ে তুলব।’

চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো নিয়ে ‘কাজ করার’ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রামের অন্যতম সূতিকাগার এ চট্টগ্রাম। এখানে একটি স্মৃতিসৌধ করা হচ্ছে। আমি খুব খুশি। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এ স্মৃতিসৌধ ভূমিকা পালন করবে।’

‘এ জায়গাটি একসময় স্বাধীনতা বিরোধীদের খপ্পরে পড়েছিল। স্বাধীনতাবিরোধী সরকারের মন্ত্রী এটাকে দখল করে ইটভাটাসহ অবৈধ অনেক কাজ করত। প্রশাসনসহ স্থানীয়দের ধন্যবাদ জানাই তারা এ জায়গাকে রাহুমুক্ত করতে পেরেছে।’

মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ইতিহাস উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল বলেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ১৯৪০ সালের এদিনে পাকিস্তান দিবসের প্রস্তাব দেন। ২৩ মার্চ প্রতি বছর পাকিস্তান দিবস হিসেবে পালিত হতো। এদিন ভোরে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হতো, আয়োজন করা হতো কুচকাওয়াজ, সভা সমাবেশ ও নানা অনুষ্ঠান।’

বিজ্ঞাপন

‘১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেবারের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবস হিসেবে নয়, পালিত হবে প্রতিরোধ দিবস হিসেবে। শুধুমাত্র ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া সব জায়গায় বাঙালিরা সেদিন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আবার ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করার জন্য জিয়াউর রহমান গিয়েছিলেন। সেদিন স্থানীয় ও মুক্তিযোদ্ধা প্রত্যেকের বাধার মুখে ওই অস্ত্র নামাতে পারেননি জিয়া। বলা যায়, ২৩ মার্চ যেমন সুখের তেমন দুঃখের। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং প্রথম চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রে ওই ভাষণ পাঠ করেছেন অনেকেই।’

‘কিন্তু আজ যারা স্বাধীনতা বিরোধী, তারাই হয়ে গেলেন স্বাধীনতার ঘোষক। তারা স্বঘোষিত কী কী হননি, সব হয়েছেন। যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ওইসময়ে ফিরিয়ে না আনা যেত তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা বিপক্ষ শক্তির হাতে চলে যেত।’

একই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্যও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ফলে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করে দেশ আজ স্বাধীনতার পক্ষে এসেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২৯ বছর জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া দেশ চালিয়েছে। ২৯ বছরে চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশে কী উন্নতি হয়েছে এবং ২৩ বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে কী হয়েছে সেটা হিসেব করলে এ পার্থক্য বোঝা যাবে।’

১৯৫২ সালে কারাগারে থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দাবি করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য বাঙালিরাও ভোট দিয়েছিলেন, যার সূতিকাগার ছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর বাঙালিদের উপেক্ষা করা শুরু হল। তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন শুরু থেকেই। ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের তারিখ ও সময় তিনি হাসপাতালে বসে ঠিক করেছিলেন। কারণ ওইদিন পাকিস্থান গণপরিষদের অ্যাসেম্বলি ছিল। তাই সেদিনই তিনি মিছিল করার তারিখ ঠিক করেছিলেন।’

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু ও এস এম আল মামুন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এ কে এম সারোয়ার কামাল ও মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এম মাহতাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ প্রমুখ।

আলোচনা শেষে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘বিজয় নিশান’র মোড়ক উম্মোচন করেন মন্ত্রী।

জেলা প্রশাসকের সংবাদ সম্মেলন

সমাবেশের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। তিনি স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের অসামান্য অবদান আছে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামে কোনো স্থায়ী স্মৃতিসৌধ ছিল না। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রামবাসীর অনেকদিন ধরেই একটি দাবি ছিল, এখানে স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হোক। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রতি সম্মান রেখে ২০২৩ সালে ৩০ একর জমির ওপর স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। একটি স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি ছিল, এ বছরের ২৬ মার্চ উনারা স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে চান। তাদের দাবির মুখে আমরা একটি অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছি। আমাদের বিশ্বাস চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।’

চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরে হওয়ায় সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ঢাকার সাভারে যখন জাতীয় স্মৃতিসৌধ হয়েছিল তখনও মানুষ প্রথমে কম যেত। কারণ সাভার অনেক দূরে। কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষ সেখানেই ফুল দিতে যায়। আমরা বেশকিছু গণপরিবহনের ব্যবস্থা করব, যাতে মানুষ এখানে আসতে পারে। প্রতি ঘণ্টায় দুটি পয়েন্ট থেকে বাস ছেড়ে আসবে। সে বাসে করে মানুষ এখানে এসে শ্রদ্ধা জানাতে আসতে পারবে।’

সারাবাংলা/আইসি/পিটিএম

চেতনা টপ নিউজ মুক্তিযুদ্ধ

বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ

ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের আহ্বান বিএনপির
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪৫

সম্পর্কিত খবর