Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the all-in-one-seo-pack domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the cps domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the sarabangla4 domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170
ডেঙ্গুতে মৃত ৪২ শতাংশের নমুনা পরীক্ষা নেগেটিভ
Friday 24 Jul 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ডেঙ্গুতে মৃত ৪২ শতাংশের নমুনা পরীক্ষা নেগেটিভ

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ জুন ২০২৪ ২২:৩৩

ঢাকা: দেশে ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৭০৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান বিভিন্ন হাসপাতালে। এর মাঝে ৯৩টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত না হলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩৯ জন বা ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ হাসপাতালে ভর্তির আগে এই রোগীদের এনএস ওয়ান (NS1) পজিটিভ বা আইজিএম (IgM) পজিটিভ রিপোর্ট ছিল না।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতদের নানান ধরণে তথ্য পর্যালোচনা করে এমন তথ্য জানা গেছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যবেক্ষণে।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডেথ রিভিউ কমিটির একজন সদস্য সারাবাংলাকে বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৯৩ জনের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়৷ এই ৯৩ জনের অধিকাংশের বয়স ছিল ১৫ থেকে ৫৯ বছর। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মারা যাওয়া এই ৯৩ জনের মাঝে ৩০ জন রোগীর ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ ছিল না।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষায় শনাক্ত না হলেও ৪২ শতাংশ রোগী মারা গেছেন ডেঙ্গুতে। তার মানে তারা অন্যান্য রোগের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এক্ষেত্রে ডেঙ্গু টেস্ট কোথা থেকে করানো হচ্ছে সেটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেখা গেল রোগী যেখানে নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছে সেখানে মানসম্পন্ন কিট নেই। এ ছাড়া, হাসপাতালে আসার আগে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছিলেন কিনা সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর তাই আমরা বারবার বলছি, বৃষ্টির মৌসুমে যখনই জ্বর আসে বা ডেঙ্গুর অন্যান্য কোনো লক্ষণ দেখা দেয় তখনই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ডেথ রিভিউ কমিটি কী ও কেন?

কী কারণে ও কোন কোন পরিস্থিতিতে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রোগীরা মারা যাচ্ছেন— তা জানতে একটি ‘ডেথ রিভিউ’ বা ‘মৃত্যু পর্যালোচনা’ কমিটি গঠন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যু নিয়ে মূলত ডেথ রিভিউ কমিটি একাধিক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করে থাকে। এর মাঝে অন্যতম রোগী ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার কত পরে হাসপাতালে এসেছেন, হাসপাতালে আসার কত সময় পর মৃত্যু হয়েছে, ডেঙ্গুর কোন পর্যায়ে রোগী মারা গেছেন।

এ ছাড়াও, মৃত রোগীর ওষুধ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি রোগীকে দেওয়া ফ্লুয়েড ব্যবস্থাপনা ঠিক ছিল কি না সেগুলো উঠে আসে ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যালোচনায়। তা ছাড়া রোগী অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত ছিল না সেটিও উল্লেখ করা হয় রিভিউ রিপোর্টে। এর পাশাপাশি রোগী ডেঙ্গুর কোন ধরনে আক্রান্ত ছিলেন সেটির তথ্য পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে রিপোর্টে। এর পাশাপাশি কোন বয়সের রোগীরা বেশি মারা যাচ্ছেন ও তারা কোন সময় হাসপাতালে ভর্তি হয় সেসব তথ্যও পর্যালোচনা করে থাকে কমিটি।

ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মারা যাওয়ার পরে কর্তৃপক্ষ একটি নির্ধারিত ফরমে অন্যান্য তথ্যের পাশাপাশি মৃত্যুর কারণও উল্লেখ করা হয়।

সাধারণত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কারণ হিসেবে তিনটি বিষয় উল্লেখ করে থাকে। এর মাঝে অন্যতম ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার অর্থাৎ রক্তে অণুচক্রিকা কমে যাওয়া বা রক্তক্ষরণ হওয়া। এছাড়াও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম অর্থাৎ রক্তে অনুচক্রিকা কমে যাওয়া বা রক্তক্ষরণ হওয়া বা রোগী অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এই দুইটির পাশাপাশি এক্সপ্যানডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম অর্থাৎ একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়েও উল্লেখ করা হয়ে থাকে। কিছুক্ষেত্রে একাধিক কারণও উল্লেখ করা হয় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে।

২০২৩ সালের ২৩ জুলাই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ১৩ সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (তৎকালীন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখায় থাকলেও বর্তমানে প্রশাসন শাখায়) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবিরকে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, যে কোনো রোগের ক্ষেত্রে যদি সবকিছু পর্যালোচনা করা হয় তবে সেটা চিকিৎসকদের অনেক উপকারে আসে। এক্ষেত্রে রোগে আক্রান্ত মৃত্যুর ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে চিকিৎসকেরা নতুন বিষয় জানতে পারেন এবং তার ভিত্তিতে চিকিৎসা নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা হয়। একইসঙ্গে মৃত্যুহারও কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

২০২৩ সালের ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যালোচনা কী বলছে?

স্বাস্থ্য অধিদফতর গঠিত ডেথ রিভিউ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দেশের সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এবার ১৩টা হাসপাতালের স্পট স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে পর্যালোচনা করে ডেথ রিভিউ কমিটি। এর মাঝে ৪৯ জন পুরুষ ও ৪৪ জন নারীর মৃত্যু পর্যালোচনা করা হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা এই ৯৩ জনের বেশিরভাগের বয়স ছিল ১৫ থেকে ৫৯ বছর। এর মাঝে বাচ্চাও ছিল। এই প্রতিটা মৃত্যুর তথ্য অনেকগুলো দিক বিবেচনায় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৯৩ জ্নের মাঝে ৫৪ জন এনএস ওয়ান পজিটিভ বা আইজিএম (IgM) পজিটিভ ছিল। বাকি ৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাদের ডেঙ্গু পরীক্ষার ফলাফলে নেগেটিভ রেজাল্ট জানানো হয়।

রিভিউ রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসপাতালে আসা ৩০ জন রোগীর মাঝে ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ ছিল না। অর্থাৎ তারা অন্যান্য কোনো রোগের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসে। তাদের সাধারণ রোগী হিসেবেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায় তার শারীরিক অসুস্থতার কারণ ডেঙ্গু।

রিভিউ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ ফলাফল আসার কারণে বা উপসর্গ না থাকার কারণে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া যায় নি। এক্ষেত্রে উপসর্গ না থাকার কারণে ফ্লুয়েড ম্যানেজম্যান্টও প্রটোকল অনুযায়ী ছিল না। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া রোগীর ক্ষেত্রে যতটা আসলে প্রটোকল মেনে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা দেওয়া হয়ে থাকে, উপসর্গ না থাকার কারণে এই রোগীদের সেটি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ডেঙ্গু ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, রোগীদের কেউ দুই থেকে পাঁচদিন পরে হাসপাতালে এসেছে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। তবে তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার সময়েই শারীরিকভাবে খুবই জটিল অবস্থায় ছিলেন।

ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, ৯৩ জনের মাঝে ডেঙ্গুর শক সিনড্রোম হিসেবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে ২৫ জন কিন্তু মারা গেছে ৩৪ জন। অর্থাৎ এই রোগীরা খুব দ্রুতই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পরে শক সিনড্রোমে চলে গেছে। চিকিৎসা দেওয়ার জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন ছিল ততটুকুও আসলে তাদের ক্ষেত্রে দেওয়া সম্ভব হয় নি শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার কারণে।

এছাড়াও ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যালোচনায় ৩৩টি মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে তারা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিল। অ্যাজমা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ আরও নানা রোগে তারা আক্রান্ত ছিল।

কর্তৃপক্ষ কী বলছেন?

ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যালোচনা নিয়ে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক মো. নিয়াতুজ্জামান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্য নিয়ে কাজ করেছে কমিটি৷ তবে এত পূর্ণাঙ্গ তথ্য স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাবে। আর তাই আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘রোগীদের পরিস্থিতি দেখে আমরা গত মৌসুমে (২০২৩ সালে) অনেকেই ডেঙ্গু নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে আসার পরেও আমরা তাদের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিয়েছিলাম উপসর্গ বিবেচনায় নিয়ে। কারণ ডেঙ্গুর সাধারণ যে উপসর্গগুলো দেখা যেত সেগুলোর বাইরেও কিছু উপসর্গ ছিল যা হয়ত অনেকে গুরুত্ব দেয়নি। সেসব উপসর্গ না বুঝতে পারার কারণে অনেকে ডেঙ্গুর নমুনা পরীক্ষা করানো জরুরি মনে করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা গেছে নমুনা পরীক্ষা করালেও ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। এক্ষেত্রে যেখানে নমুনা পরীক্ষা করিয়েছে তাদের কিটের মান নিয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। আর তাই আমরা আমাদের হাসপাতালে যখনই রোগী এসেছে নতুনভাবে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা শুরু করি।’

ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ‘ডায়রিয়াসহ আরও নানা রোগের আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে রোগীরা। যারা প্রাথমিকভাবে ডেঙ্গু শনাক্তে জরুরি নমুনা পরীক্ষা করানোর কথাও ভাবেনি। কিন্তু সিম্পটোমেটিক ট্রিটমেন্ট দেওয়ার এক পর্যায়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। আর তাই আমরা সবসময়েই বলে থাকি, যখনই কোনো লক্ষণ দেখা দিবে তখন নিজে নিজে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য।’

ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যালোচনা নিয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) সারাবাংলাকে বলেন, ‘এনএস ওয়ান নেগেটিভ হলেই ডেঙ্গু নাই এমনটা বলা ঠিক হবে না। আইজিএম নেগেটিভ হলেও ডেঙ্গুমুক্ত তাও বলা যাবে না। এক্ষেত্রে আসলে কোন সময়ে নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছে সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ দেরি করে নমুনা পরীক্ষা করে তবে ফলাফল নেগেটিভ আসাটাই স্বাভাবিক।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত প্রথম দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করালে এনএসওয়ান পজিটিভ আসার সম্ভাবনা থাকে। চতুর্থ দিনে কিন্তু এনএসওয়ান ও আইজিএমও নেগেটিভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পঞ্চম দিনে গিয়ে আইজিএম পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাত থেকে আটদিন পরে আবার আইজিএম বা আইজিজি সবই পজিটিভ হতে পারে। অর্থাৎ উইন্ডো পিরিয়ডে করলে সবই নেগেটিভ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে যখনই কোনো উপসর্গ দেখা দেবে তখনই চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া বা হাসপাতালে যাওয়া। রোগীর পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নমুনা পরীক্ষা করলে ঝুঁকি এড়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে যদি প্রয়োজন হয় তবে হাসপাতালে ভর্তি করানো দরকার হলেও সেটার পরামর্শও দিবেন চিকিৎসক। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই আমাদের ডেঙ্গু সংক্রান্ত গাইডলাইনে উল্লেখ করা আছে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. শেখ দাউদ আদনান সারাবাংলাকে বলেন, ‘ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিটা মৃত্যুর ঘটনাই দুর্ভাগ্যজনক। অনেকেই দেখা গেছে দুইদিন বা পাঁচদিন পরে হাসপাতালে এসেছে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার সময়েই শারীরিকভাবে খুবই জটিল অবস্থায় ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘রোগীদের শারীরিক অবস্থার বেশি অবনতি হওয়ার পরে চিকিৎসা কেন্দ্রে আসার কারণেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। হয়তবা ডেঙ্গুর যেসব প্রাথমিক লক্ষণ ছিল সেগুলো তারা বুঝতে দেরি করেছে। আর সেজন্য দেরিতে নমুনা পরীক্ষা করেছে বা চিকিৎসা কেন্দ্রে এসেছে। এজন্যেই আসলে বারবার বলা হচ্ছে যে দ্রুত হাসপাতালে আসুন ও পরীক্ষা করান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাক রোগীর ভর্তি প্রয়োজন আছে নাকি বাসায় রেখেও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাজমা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ আরও নানা রোগে যারা আক্রান্ত তারা এমনিতেই সবসময় ঝুঁকির মুখে থাকে। এর মাঝে যদি তাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে তবে সেটা খারাপ হতে পারে। এ জন্য গর্ভবতী হোক বা কারো যদি কো-মর্বিডিটি থাকে তবে তাদের জ্বর আসা মাত্র চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।’

সচেতন থাকার পরামর্শ

ডেঙ্গু থেকে নিরাপদ থাকার জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. শেখ দাউদ আদনান।

তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘এডিস মশা উড়তে পারে ২০০ মিটার। সুতরাং সবারই নিজের ঘর পরিষ্কার রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। একইসঙ্গে প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে আশপাশের জমা পানি পরিষ্কার করে সামাজিকভাবে সবাই নিরাপদে থাকা।’

তিনি বলেন, ‘মশারির মধ্যে থেকে নিজেদের নিরাপদে রাখার পাশাপাশি যে সব সময় ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশা কামড়ে থাকে সেসব সময় সতর্ক থাকা। ছোট বাচ্চাদের মশারির ভেতরে রাখা জরুরি। সবচাইতে বড় কথা জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে হওয়া প্রতিটি জ্বরের ঘটনাকে ডেঙ্গু মনে করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। দ্রুত নমুনা পরীক্ষা করে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।’

তবে ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যবেক্ষণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

তিনি বলেন, ‘সবাই যদি সচেতন হয়ে নিজের ঘরের পাশাপাশি চারপাশটা পরিষ্কার রাখতে পারি তবে এইডিস মশার বিস্তার রোধ করা যাবে। এডিস মশার বিস্তার রোধ করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও কিন্তু কমে আসবে। তখন আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশে কাউকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে না।’

উল্লেখ্য, দেশে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন। এর মধ্যে মারা যান ২৮১ জন। তবে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর সব রেকর্ড ভেঙে যায়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ২৭ জন। এর মধ্যে মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। মৃত্যুহার বেড়ে হয় শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ।

২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত দেশে দুই হাজার ৯৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মাঝে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৬ জন।

সারাবাংলা/এসবি/একে

এডিস মশা ডেঙ্গু স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য অধিদফতর

বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ

ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের আহ্বান বিএনপির
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪৫

সম্পর্কিত খবর