Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the all-in-one-seo-pack domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the cps domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the sarabangla4 domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
কোকেনের উৎস ব্রাজিল, গন্তব্য ভিন্ন দেশ– বাংলাদেশ ‘ট্রানজিট রুট’
Saturday 02 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কোকেনের উৎস ব্রাজিল, গন্তব্য ভিন্ন দেশ– বাংলাদেশ ‘ট্রানজিট রুট’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৫ জুলাই ২০২৪ ২০:৪০

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাহামার নাগরিক এক নারীর কাছ থেকে জব্দ বস্তু নিষিদ্ধ মাদক কোকেন বলে নিশ্চিত হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। ব্রাজিল থেকে প্রায় চার কেজি কোকেনের চালানটি বাংলাদেশে পাঠানো হয়। বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে এসব কোকেন অন্য কোনো দেশে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

জানা গেছে, বাহামার ওই নারীর কাছ থেকে চট্টগ্রামে যে বা যারা কোকেনের চালানটি গ্রহণ করতেন, তাদেরসহ ধরার জন্য ছক কষে অপেক্ষমাণ ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। কিন্তু বিমানবন্দরে ওই নারী আটক হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তথ্য এবং ওই নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চালানটির এদেশীয় ‘রিসিভারের’ সন্ধানে নেমেছে অধিদফতর।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন কেজি নয়শো গ্রাম কোকেনের একটি চালানসহ আটক হন বাহামার নাগরিক স্টালিয়া শান্টে রোলের নামে এক নারী।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নের (এপিবিএন) নবম ইউনিট এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, স্টালিয়া গত শুক্রবার (১২ জুলাই) এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে ব্রাজিল থেকে দুবাই পৌঁছেন। সেখান থেকে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে শনিবার চট্টগ্রামে আসেন। তবে সেদিন তার লাগেজ পৌঁছেনি। স্টালিয়া গত তিনদিন ধরে নগরীর আগ্রাবাদ হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি হোটেল থেকে বিমানবন্দরে যান। দুইদিন পর আসা লাগেজটি বুঝে নেয়ার পরপরই তাকে আটক করা হয়। এরপর লাগেজে তল্লাশি করে কোকেন সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়, যার ওজন তিন দশমিক নয়শো গ্রাম। লাগেজে একটি ইউপিএস’র ভেতরে সেগুলো রাখা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক হুমায়ুন কবির খন্দকার সারাবাংলাকে বলেন, ‘জব্দ বস্তুগুলো একেবারে সাদা পাউডার জাতীয়। আমরা আমাদের কার্যালয়ের কেমিক্যাল এক্সামিনারসহ বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম। পরীক্ষার পর এক্সামিনার আমাদের নিশ্চিত করেছেন যে, জব্দ পাউডারগুলো কোকেন।’

কোকেনের চালানসহ বাহামার নারী আটকের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত নাইন এপিবিএন’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুল আবসার সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, গ্রেফতার নারী ও জব্দ কোকেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের পক্ষ থেকে নগরীর পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হবে। মামলা তদন্তও করবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল থেকে কোকেনের একটি চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে গত ১১ জুলাই তথ্য পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। সেই চালান আটকের জন্য অধিদফতরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। তারা চালানটি আটকের জন্য ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজর রাখছিলেন।

কিন্তু ১২ জুলাই জানতে পারেন, চালানের বাহক রুট পরিবর্তন করেছেন। তিনি ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। এরপর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকার তিন সদস্যের টিম চট্টগ্রামে পৌঁছে। টিমের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা শাহ আমানত বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক নজর রাখছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ১২ জুলাই অর্থাৎ গত শুক্রবার থেকে বিমানবন্দরে নজরদারি করছিলাম। শনিবার বাহামার নারী শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছেন। কিন্তু তার সঙ্গে কোনো লাগেজ ছিল না। আমরা তাকে অনুসরণ করতে থাকি। তিনি আগ্রাবাদ হোটেলে ওঠেন। আমরা সেখানেও তাকে নজরদারিতে রাখি। প্রথমে স্টালিয়া রোববার (১৪ জুলাই) পর্যন্ত হোটেলের কক্ষ বুকিং দিয়েছিলেন। পরে তিনি আরও একদিন সময় বাড়িয়ে নেন।’

‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল, আজ (সোমবার) লাগেজে করে কোকেনের চালানটি পৌঁছবে এবং আজ রাতে হোটেল থেকে রিসিভার সেটি তার কাছ থেকে নিয়ে যাবে। সে অনুযায়ী, আমরা রিসিভারসহ কোকেনের চালান আটকের পরিকল্পনা করি। কিন্তু বিমানবন্দরে কোকেনের চালানসহ বাহামার নারীকে আটক করা হলে আমাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এখন আমরা রিসিভারকে আটকের জন্য ভিন্ন উপায়ে চেষ্টা চালাতে হচ্ছে।’

ওই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, স্টালিয়া ব্রাজিলের সাও পাওলো বিমানবন্দর থেকে কোকেনের চালানটি গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্য হিসেবে তিনি চালানটির বাহকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। চট্টগ্রামে পৌঁছার পর চালানটি নির্দিষ্ট রিসিভারের কাছে হস্তান্তরের পর আগামীকাল (মঙ্গলবার) আবার তার দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল।

‘স্টালিয়া বাহামা থেকে ব্রাজিল হয়ে দুবাই পৌঁছে ফ্লাইট চেঞ্জ করেন। এরপর চট্টগ্রামে পৌঁছেন। একই রুটে তিনি ফেরত যাবার কথা ছিল বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।’

জব্দ কোকেনের গন্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে তো এগুলোর ইউজ নেই। আগেও তো চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেনের চালান আটক হয়েছে। সেগুলো তো বাংলাদেশের জন্য আসেনি। আমাদের ধারণা, এটাও বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য আসেনি। জাস্ট বাংলাদেশ হয়ে অন্য কোনো দেশে পাচারের জন্য চালানটি আনা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে গন্তব্য প্রতিবেশি কোনো দেশ কিংবা ইউরোপের কোনো কান্ট্রি হতে পারে।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ‘কোকেন’সহ বাহামার নারী আটক

জানতে চাইলে নাইন এপিবিএন’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুল আবসার সারাবাংলাকে বলেন, ‘ব্রাজিল থেকে কোকেনের চালান গ্রহণ করেছে এটা নিশ্চিত। তবে গন্তব্য কোথায় ছিল এটা বলতে পারবো না। যিনি বাহক, তিনিও জানেন কি না সন্দেহ। তিনি এক স্টেপ দেয়ার পর পরবর্তী স্টেপ দেবেন কি না, সেটাও আগে থেকে জানেন না। তার মোবাইলে বিভিন্ন এসএমএস আমরা দেখেছি। এসব এসএমএসের মাধ্যমে তার প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। বাকি বিষয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যেহেতু তদন্ত করবে, তারাই বলতে পারবে।’

নয় বছর আগেও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কোকেনের বড় একটি চালান জব্দ হয়েছিল। ২০১৫ সালের ৬ জুন কোকেন সন্দেহে চট্টগ্রাম বন্দরে সূর্যমুখী তেলের একটি চালান আটক করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। ২৭ জুন চালানের ১০৭টি ড্রাম পরীক্ষা করে দুটিতে কোকেন শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় মাদক আইনে ও চোরাচালানের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা দায়ের হয়েছিল, যার বিচার কার্যক্রম এখনও চলছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, কোকেনের চালানটি উরুগুয়ের মন্টিভিডিও থেকে জাহাজীকরণ করা হয়েছিল। পরে তা সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।

সারাবাংলা/আরডি/এনইউ

আটক কোকেন টপ নিউজ নারী

বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ

ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের আহ্বান বিএনপির
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪৫

সম্পর্কিত খবর