Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the all-in-one-seo-pack domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the cps domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the sarabangla4 domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170
আন্দোলনে ২৭ দিনে ৩২ শিশুসহ ৬৫০ জন নিহত: জাতিসংঘ
Tuesday 21 Jul 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আন্দোলনে ২৭ দিনে ৩২ শিশুসহ ৬৫০ জন নিহত: জাতিসংঘ

সারাবাংলা ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২৪ ২০:১১

কোটা সংস্কার থেকে সরকার পতনের দাবিতে রূপ নেওয়া ছাত্র আন্দোলনে ২৭ দিনে চার সাংবাদিক ও ৩২টি শিশুসহ প্রায় ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে জাতিংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)। জাতিসংঘের এই দফতরটি বলছে, আন্দোলন দমন করতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠোর বলপ্রয়োগ ও গুমের পাশাপাশি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও তুলেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) ওএইচসিএইচআর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি করা প্রাথমিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। জেনেভা থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, অন্তর্বর্তী সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি ২১টি পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে রাজপথে নামতে শুরু করেন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তারা আন্দোলন চালিয়ে যান। ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। ওই দিন ছয়জন নিহত হলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বলছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে বিক্ষোভে সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় চার শ মানুষ নিহত হয়েছেন। এরপর ৫ ও ৬ আগস্ট— এই দুই দিনেই নিহত হয়েছেন প্রায় আড়াই শ মানুষ। এ ছাড়া ৭ থেকে ১১ আগস্ট সময়ের মধ্যেও অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের কারও কারও মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলদেশে এই সময়ে হতাহতের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের দায় সবচেয়ে বেশি বলে উঠে এসেছে তথ্যে। নিরস্ত্র বা কখনো লাঠিসোঁটা হাতে থাকা আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্রের (লাইভ অ্যামুনিশেন) ব্যবহার এসব প্রাণহানির অন্যতম কারণ। কখনো কখনো একেবারেই নিরস্ত্র এবং কোনো ধরনের হুমকির কারণ না হওয়ার পরও বেআইনিভাবে মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে আন্দোলনকারীদের ওপর।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর পুলিশের নির্বিচারে গুলি চালানোসহ একাধিক ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘের দফতরটির প্রাথমিক তদন্তের প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক, গুম, নির্যাতন ও অসাদচরণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কঠোর বিধিনিষেধের মতো গুরুতর অপরাধ তারা সংঘটিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাস্তায় রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে মোবাইল চেক করে পুলিশের সহিংসতার বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ মুছে দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীসহ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক করেছে র‌্যাব, পুলিশ ও এমনকি সেনাবাহিনী। তাদের অনেককে আইন মেনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়নি। বরং ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে আটক এসব ব্যক্তির সঙ্গে কারও সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। ১২ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ২৮৬টি মামলায় দুই হাজার জনের নাম উল্লেখ করে অন্তত ৪৫ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

ওএইচসিএইচআর প্রতিবেদনে বলছে, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশপাশের এলাকায় ব্লক রেইড চালানোর তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। এ সময় বাহিনীগুলো কোনো ধরনের পরোয়ানা ছাড়াই ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন পোস্টের সূত্র ধরেও অনেককে আটক করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।

ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্বের নানা অভিযোগের তথ্যও উঠে এসেছে জাতিসংঘের এই প্রাথমিক প্রতিবেদনে। ১৮ থেকে ২৩ জুলাই এবং ৪ ও ৫ আগস্ট বাংলাদেশ সরকার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার ডাটা সেন্টারের ক্ষয়ক্ষতির কারণে ইন্টারনেট বন্ধের কথা জানালেও ওএইচসিএইচআর বলছে, সরকার এ বিষয়ে মিথ্যাচার করেছে। তথ্যপ্রবাহ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যাহত করতেই সরকার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল।

আন্দোলন চলাকালে কারফিউ জারির মাধ্যমে জনচলাচল বাধাগ্রস্ত করাসহ নানাভাবেই সরকার সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। কারফিউ অব্যাহত রাখায় খাদ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখায় শিশুসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সার্বিকভাবে স্বাভাবিক জীবন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং ভুক্তভোগীদের কার্যকর সহায়তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ২১টি সুপারিশ করেছে ওএইচসিএইচআর। রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের প্রতি সুপারিশ করা হয়েছে, তারা যেন পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং আর কোনো হতাহত প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নিশ্চিত করা, সংখ্যালঘুদের সব ধরনের সুরক্ষা দেওয়া এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক একটি ব্যবস্থা বজায় রাখতে তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার অনুযায়ী অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া শুরুর সুপারিশ করেছে ওএইচসিএইচআর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বলপ্রয়োগ, মারণাস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সুস্পষ্ট নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে। আন্দোলনের সময় যারা আহত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। আন্দোলনের সময়কার সহিংসতার বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণসহ সহিংস ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, ঝুঁকির মধ্যে থাকা বিভিন্ন সম্প্রদায়কে রক্ষার সুপারিশও করা হয়েছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মানবাধিকারকে মৌলিক ভিত্তি ধরে রেখে পাটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সমর্থন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সংঘাতের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘটনা যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এবং বিস্তৃত পরিসরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা খাতের সংস্কারে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবাধিকার সমুন্নত রেখে বাংলাদেশের রূপান্তরের এই সময়ে ওএইচসিএইচআর অন্তর্বর্তী সরকারকে যে সহায়তা দেবে, সেখানেও আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তা চেয়েছে জাতিসংঘের দফতরটি।

সারাবাংলা/টিআর

ওএইচসিএইচআর কারফিউ জাতিংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জাতিসংঘ মানবাধিকার মানবাধিকার লঙ্ঘন সহিংসতা

বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ

ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের আহ্বান বিএনপির
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪৫

সম্পর্কিত খবর