Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the all-in-one-seo-pack domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the cps domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the sarabangla4 domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
হুইসেল ব্লোয়ারস দিবস, যাত্রা হোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে
Friday 16 Oct 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হুইসেল ব্লোয়ারস দিবস, যাত্রা হোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে

মো. শাহাদাত হোসেন
২৩ জুন ২০২৪ ১২:২৪

উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ নামক গাড়ির যাত্রী আমরা। স্বাধীনতা পরবর্তী এমন উন্নয়ন বাংলাদেশে হয়নি। উন্নয়ন বলতে একটি দেশের জিডিপি বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বুঝায়। বর্তমানে আমাদের জিডিপি শুধু ভারত-পাকিস্তান নয় চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে। এখন আমাদের মাথাপিছু আয় প্রায় ৩০০০ মার্কিন ডলার। আমাদের অবকাঠামো নির্মাণও চোখে পড়ার মতো। সার্বিক বিবেচনায় বলা যায় আমাদের উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়ন একদিনেই হয় না। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে অনেক সময় দুর্নীতি আমাদের জাতীয় উন্নয়নের গতিকে পরিবর্তন করেছে। আমাদের দেশের শিক্ষিত ও প্রভাবশালীরা দুর্নীতি করছে। কিন্তু এর দায় নিতে হচ্ছে দেশের সকলকে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তার কর্মের দ্বারা। আমরা খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বর্তমানে রপ্তানীও করছি। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক সরবরাহের ফলে আমাদের কৃষি এখন আন্তর্জাতিক মানের। ঘরে বসেই ডিজিটাল সেবা গ্রহণ এবং তথ্যের আদান প্রদান কৃষিকে করেছে শক্তিশালী ও উন্নত। কৃষকদের জন্য সরকার ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করেছে। বিনামূল্যে সার ও কৃষি অফিস কর্তৃক পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তিতে আমাদের উন্নয়ন হয়েছে। আজ মানুষকে সেবা নিতে ভীড় করতে হয় না। সহজেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে বা মোবাইলের মাধ্যমে ঘরে বসে সেবা নিতে পারছে। অমরা এখন নিজস্ব অর্থায়নে বড় বড় প্রকল্প হাতে নিতে পারছি।

বিজ্ঞাপন

যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন চোখে পড়ার মতো। সরকারের ধারাবাহিকতার ফলে আজ গ্রামেও মানুষকে আর কাদাতে পিছলে পড়তে হয় না বা পানিতে ভিজতে হয় না। অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের সমস্যা দূর হয়েছে।

আমাদের দেশে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে তা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু উন্নয়ন আরও টেকসই হতো যদি দুর্নীতিমুক্ত থাকতে পারতাম। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে দুর্নীতি মোকাবেলা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। সরকার, প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সবক্ষেত্রেই দুর্নীতির সয়লাব। ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য ছোট-বড় সামর্থ অনুযায়ী সহজেই দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ছি। দুর্নীতি আমাদের জন্য অভিশাপ জেনেও লোভ সামলাতে না পেরে আমরা জাতীয় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছি।

দুর্নীতি বলতে আমরা বুঝি নিয়ম বহির্ভূত ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থে বা অর্থের লোভে স্বাভাবিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন কাজ করা। এটা একটা অপরাধমূলক এবং নীতি বিবর্জিত ঘৃণিত কাজ। আদর্শ ও নৈতিকতা হারিয়ে সামান্য অর্থ কিংবা স্বার্থের লোভে মানুষ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। আমাদের দেশে এক সময় সর্বত্র শোনা যেত জনসংখ্যা উন্নয়নের বাধা। আর এখন শোনা যাচ্ছে দুর্নীতি জাতীয় উন্নয়নের এক নম্বর শত্রু। বাড়ির ভেতর থেকে শুরু করে চায়ের স্টল, সেমিনার-সভা, বক্তৃতার মঞ্চ ছাড়াও টকশোতে সারাদিন চলছে দুর্নীতির আলোচনা। দুর্নীতিবাজরা সংখ্যায় বেশি না। তারা আমাদের সমাজেরই গুটি কয়েক প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন ব্যক্তি। তাদেরকে আমরা চিনি এবং ভাল করে জানিও। কিন্তু আমরা নৈতিকভাবে এতোটাই দুর্বল যে তাদেরকে সমাজ থেকে বয়কট কিংবা ঘৃণা করতে পারছি না।

দুর্নীতি জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায়। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য যত বড়ই এবং সমৃদ্ধ পরিকল্পনা করা হোক না কেন যদি এতে দুর্নীতির সংস্পর্শ থাকে তবে সে উন্নয়ন ফলপ্রসু হয় না। ছোট পরিকল্পনা এবং বাজেট অল্প হলেও একটা কাজ যদি দুর্নীতিমুক্ত হয় তবে তা হবে জননন্দিত এবং ফলপ্রসু। জাতীয় উন্নয়নকে সমৃদ্ধ করতে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সরকার প্রয়োজন। শুধু সরকার কিংবা প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত হলেই আবার হবে না জনসাধারণকেও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। একটা দেশ বা সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করা অনেক কঠিন তবে অসম্ভব না। যাদের পূর্ব পুরুষ অপকর্ম ও অন্যায়ের সাথে জড়িত তাদের বংশধর ভাল হবে এটা আশা করা যায় না। যেমন- বাংলাদেশ টানা কয়েকবার দুর্নীতিতে শীর্ষে ছিল। আমাদের ধর্মে বলা আছে দুর্নীতি করা এবং এর প্রশ্রয় দেওয়া একটা পাপের কাজ। অথচ আমাদের অনেক ধার্মিক ব্যক্তি বিভিন্নভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িত। দুর্নীতি হচ্ছে নিঃশব্দে কুরে খাওয়া ঘুনের মতো। তাই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সরকার দেশের উন্নয়নে বরাদ্দ দিলেও তা জনসাধারণের কাছে ঠিকমতো পৌঁছে না। শিক্ষা, চিকিৎসা ও অবকাঠামোর উন্নয়নে ঠিকই বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রামীণ পর্যায়ে যেতে বরাদ্দ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাগ হয়ে যায়। রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের অনেকেই বরাদ্দকৃত অর্থ নিজেদের জন্য বিশাল অঙ্কের ভাগ শুরু করে। ফলে উন্নয়ন দুর্বল হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্দা কেলেঙ্কারি, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশ ক্রয়ের দুর্নীতি এবং ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ করে আমরা কতটা দুর্নীতির জালে বন্দী। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর সরকার বিভিন্ন সময়ে লকডাউন দিয়ে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের সহায়তা করার জন্য অর্থ ও খাদ্য বরাদ্দ দিলেও তা স্থানীয় প্রশাসন ও নেতারা আত্মসাৎ করে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার আপোষহীন। প্রশাসন ও সরকারি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার শুদ্ধাচার কৌশল গ্রহণ করেছে। মানব সেবায় নিয়োজিত থেকে কোন ধরণের অপকর্ম ও দুর্নীতির সাথে জড়াবে না এমন শপথ করিয়ে কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অফিসে ঢুকতে চোখে পড়ে ‘আমার অফিস দুর্নীতি মুক্ত’। কিন্তু সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ভিতরে ঠিকই চলে দুর্নীতির হাট। বর্তমানে পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ অফিসে টাকা ছাড়া কাজ হয় না। এখানে চলে বড় ধরনের দুর্নীতি।

আজ চাকুরির নিয়োগে চলছে বাণিজ্য। শিক্ষায় চলছে দুর্নীতি। পছন্দের ব্যক্তিকে চাকুরি দিতে উপর মহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতির মোহড়া চলছে গ্রামের কিন্ডার গার্ডেন স্কুল থেকে সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ বিশ্ববিদ্যালয়েও। যে শিক্ষক দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেন তিনি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন না তার নিয়োগে দুর্নীতি হয়নি। মেধা আজ অর্থ ও ক্ষমতার কাছে অসহায়। একটা দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে সে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর। আজ উচ্চ শিক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার কথা বলা হয় না। দুর্নীতিবাজরা ভর্তি বাণিজ্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দিচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি তথা অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব খাটানোকে আজ কেউ অন্যায় মনে করে না। ফলে আমরা সবার জন্য শিক্ষা অর্জন করতে পারলেও মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছি। এতে জাতীয় উন্নয়ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

বাংলাদেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ভালই হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এ বিভাগে অনেক উদ্যোগ নেয়া হলেও এখানে চলে অনৈতিক লেনদেন। লাইনম্যানদের সাথে চুক্তি করে বিদ্যুৎ বিলের পরিবর্তন ঘটানো হয়। সিস্টেম লসের কথা বলে কর্মকর্তারা কোটি কোটি টাকা নিজের পকেটে ঢুকাচ্ছে। মেশিন ও বিদ্যুৎ সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতি চোখে পড়ার মতো। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর ঘাটে ঘাটে এখন দুর্নীতি। নতুন সংযোগ, মিটার লাগানো, বিদ্যুতের খুটি স্থানান্তর প্রভৃতি কাজে সাধারণ জনগনকে ব্যয় করতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ শ্লোগান দিয়ে অনেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা দুর্নীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

বর্তমান সরকার পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেলের মতো বড় বড় মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এখানে তেমন দুর্নীতি দৃশ্যমান হয়নি। এখানে হয়ত সরাসরি নজরদারি ছিল এ কারণে দুর্নীতিমুক্তভাবেই কাজ হচ্ছে। তবে গ্রামের রাস্তা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে সরকার অল্প বাজেট দিলেও সেখানে দুর্নীতি হয়। প্রকৃতপক্ষে নজরদারির অভাব থাকে বলে এমনটা হয়। দুর্নীতি কমানো বা দূর করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন রয়েছে। কিন্তু তারা অনেক সময় প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবানদের কাছে জিম্মি। ফলে বড় বড় দুর্নীতিবাজরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায়। অনেক সময় কমিশনের সাথে নিযুক্ত ব্যক্তিরাই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

সাধারণ মানুষের কথা বাদ দিয়ে যদি আমরা দেশের মহান পেশায় নিয়োজিত শিক্ষকদের কথা বলি তাহলে লজ্জায় মাথা নত হয়। সামান্য উপবৃত্তির টাকা নিজের পকেটে ঢুকাতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মনে একটুও বাধে না। আবার অনেক বিদ্যালয়ের সভাপতি নিজের আত্মীয়-স্বজনদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে উপবৃত্তির টাকা সংগ্রহ করে। শিক্ষক নিয়োগে আজ টাকার ছড়াছড়ি। অবৈধভাবে সনদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে অবসর ভাতা বা পেনশন উত্তোলনেও শিক্ষকরা আজ অনৈতিক পন্থা বেছে নিচ্ছেন। অনেক সময় হয়ত তারা নিরুপায় হচ্ছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্নীতি করছে।

আমাদের দেশে গণতন্ত্রের চর্চা থাকলেও ভোটের সময় অবৈধ অর্থের লেনদেন হয়। প্রার্থী ও ভোটাররা অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনা-বেচা করে। ফলে প্রভাবশালী ও বিত্তবানরা ভোটে নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত হওয়ার পর গরীব ও দরিদ্রদের সাহায্যের টাকায় নিজের পকেট ভর্তি করে। রাস্তা-ঘাট নির্মাণে যে বরাদ্দ আসে তা নিজের জন্য ব্যয় হয়। জনগনও তাদের কাছে নিরুপায়। কারণ ভোটের সময় তারা নিজেরা বিক্রি হয়েছিল টাকার কাছে। গ্রামের মেম্বার থেকে শুরু করে এমপি নির্বাচন একই রোগে আক্রান্ত। ফলে আমাদের সমাজ থেকে দুর্নীতি নামক ভাইরাস দূর হচ্ছে না।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার তারা মনে করেন, দুর্নীতির জন্য ৯০ শতাংশ দায়ী রাজনৈতিক নেতারা। তাদের নোংরা ও হিংসাত্মক রাজনীতি এবং হাঠাৎ করে ধনী হওয়ার আকাক্সক্ষার কারণে দুর্নীতি বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে শুধু খাতা-কলম কিংবা বক্তৃতার মঞ্চ নয় বাস্তবে রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতা ও আমলারা দেশ চালাচ্ছে। তারা যদি মনে করেন কাল থেকে দেশে কোন দুর্নীতি থাকবে না তাহলে সত্যি দুর্নীতি দূর হবে। মানুষ বাস করবে শান্তিতে। ফলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে। আর এ উন্নয়ন টেকসই হবে।

সৃষ্টির আদিকাল হতেই দুর্নীতি চলে আসছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য এটি একটি জটিল ব্যধি। সম্পূর্ণরুপে দুর্নীতি দমন করা শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টি হলে দুর্নীতি দূর হবে। যেখানেই দুর্নীতি সেখানেই প্রতিরোধ তৈরি করতে হবে। যেখানে দুর্নীতি হয় সেখানে তাদের শাস্তি বিধানের চেয়ে যেন দুর্নীতি না হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রকৃত শিক্ষা এবং দুর্নীতি করলে কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দেশকে অতীতের গ্লানি থেকে মুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।

অর্থনীতি একটি দেশের মূল চালিকা শক্তি। বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং গার্মেন্টস সেক্টরের উপর। যদিও বর্তমানে নতুন নতুন পণ্য বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। শ্রমিকদের বিদেশে যেতে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। গার্মেন্টস কর্মীদের ঠিকমতো বেতনভাতা প্রদান করা হয় না। অতি অল্প বেতনে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়। শিল্প কারখানার মালিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছে। যেখানে ঋণ পাবে না সেখানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঘুষ দিয়ে ঠিকই ঋণ নিচ্ছে। ফলে একসময় ঋণ পরিশোধ না করেই বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। এতে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে নাগরিক তার সেবার মান ও পরিধি সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাচ্ছে। ডিজটাল সেবা এখন প্রায় সর্বত্র চালু হয়েছে। মানুষ ঘরে বসে সেবা নিতে পারলেও বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা ছাড়া কাজ হচ্ছে না বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। সরকারি হাসপাতাল, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্র এখন চা ও মিষ্টি খাওয়ার নাম করে বিভিন্ন কৌশলে টাকা আদায় করছে। সাধারণভাবে এটাকে দুর্নীতি মনে না হলেও এটাই দুর্নীতির হাতে খড়ি। কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকে সামাজিকভাবে হেনস্থা ও হেয় করা হচ্ছে। দুর্নীতি যেন এখন সামাজিকভাবে স্বীকৃত। অফিসে কোন কাজে গেলে কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া, পুলিশের কাছে গেলে ঘুষ দিতে হয় এটা যেন আমরা মেনেই নিয়েছি।

সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশই নিয়ম মানছে না। দোকান, রেলস্টেশন, ব্যাংক, রাস্তা এমনকি চিকিৎসা সেবা নিতেও নিয়মের তোয়াক্কা করছে না। শেষ সময়ে গিয়ে কীভাবে দ্রæত সেবা পাওয়া যায় এমন ধান্দায় সবাই ব্যস্ত। ডাক্তারের কাছে গিয়ে টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল আগে করে নেয়া নিত্যদিনের ঘটনা। আবার রেলে কিংবা বাসের টিকিট সংগ্রহের সময় বাইপাস করে অন্যকে ডিঙিয়ে চলে যাচ্ছেন ভদ্র পোশাক পরিহিতরা। কৃত্রিম সঙ্কট করে রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা টিকিটের কালোবাজারি করছে। অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে। উঠতি বয়সী তরুণ-যুবকরা অধিকাংশ সময় বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণের চেষ্টা করে। এগুলো সবই আসলে দুর্নীতির শাখা-প্রশাখা।

এখন হাজারো আইন কিংবা শাস্তির বিধান করে দুর্নীতি দূর করা যাবে না। আমাদের রক্তে এবং রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবাহমান। দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন করা কঠিন। পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নীতি-নৈতিকতা চর্চা করলে সমাজ দুর্নীতিমুক্ত হতে পারে। পরিবার থেকে পিতা-মাতা যদি অন্যায় এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে গড়ে উঠতে সন্তানকে পরামর্শ দেন তবে সমাজ সুন্দরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। আবার আইন থাকলে এর প্রয়োগ হচ্ছে ব্যক্তিভেদে। ফলে দুর্নীতিবাজরা আইনের ফাঁক দিয়ে সহজেই বের হচ্ছে। সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে স্বার্থের উর্ধ্বে থেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।

গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত সর্বত্রই সত্যের সংগ্রামে অবিচল থাকতে হবে। অর্থ ও ক্ষমতার লোভ না করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে পারলে সবাই ভাল থাকবে এটা জনসাধারণকে বুঝাতে হবে। দুর্নীতি করে গোশত-পোলাও খাওয়ার চেয়ে কষ্ট করে শাক-ভাত খাওয়া কল্যাণ ও গৌরবের এটা বুঝতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার জন্য দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রতি বছর একটু একটু করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সেবাকেন্দ্রগুলোতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে হবে। দুর্নীতি একটি জাতি ও দেশকে ধ্বংস করে তা শিশুকাল থেকেই শেখাতে হবে।

দুর্নীতির শাস্তি কার্যকর করে ছোট বড় সকলকে আইনের আওতায় আনতে পারলে দেশে ঘুষ ও অন্যায় কমে যাবে। অবৈধ অর্থের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে শিশুকাল থেকেই নীতি-নৈতিকতা চর্চা করতে হবে। স্কুলের শিক্ষক যেন অনুকরণীয় হয় সেজন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের চরিত্রবানরুপে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হবে। দুর্নীতির মূলোৎপাটন ঘটিয়ে জাতীয় উন্নয়ন আরও বেগবান হবে এটাই হোক আমাদের অঙ্গিকার।

লেখক: ব্যাংকার

সারাবাংলা/এসবিডিই

মুক্তমত মো. শাহাদাত হোসেন হুইসেল ব্লোয়ারস দিবস- যাত্রা হোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে

বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ

ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের আহ্বান বিএনপির
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪৫

সম্পর্কিত খবর