Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the all-in-one-seo-pack domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the cps domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the sarabangla4 domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6170
বন্ধ হয়ে গেছে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং
Tuesday 21 Jul 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বন্ধ হয়ে গেছে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং

ঝর্ণা রায়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৪৪

ঢাকা: মতিঝিলকে বলা হয় রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যাংক, বিমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেই মতিঝিলেই এখন ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে দুই থেকে তিন বার টানা আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। একই খবর পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীর অন্য এলাকা থেকেও। বার বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে আইপিএস, জেনারেটরে।

এদিকে, ইলেক্ট্রো-হাইড্রোলিক ওয়েলপাম্প নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্র থেকে কোনো বিদ্যুৎ আসছে না। ফলে সারা দেশে ২৮০ থেকে ২৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লোডিশেডিং। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার গোপীবাগ এলাকার বাসিন্দা সুকুমার মিত্র সারাবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার তিন বার লোডশেডিং হয়েছে। প্রতিবারই দুই ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ ছিল না। আইপিএস সাপোর্ট দিতে পারছে না। রাতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়।’ বাসাবো এলাকার সুমাইয়া সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে কষ্ট সবচেয়ে বেশি।’

এর বাইরে গ্যাসের সমস্যার পাশাপাশি মিরপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় লোড শেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেকে লোডশেডিংয়ের তথ্য ফেসবুকে শেয়ারও করছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কাজ-কর্মেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

এদিকে, রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, বরিশাল, পটুয়াখালী, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, কুমিল্লা, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও সাভার এলাকা থেকে লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। বরিশাল সদরে ভাটিখানা এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান সারাবাংলাকে জানান, গত বছর গ্রীষ্মকালে ভয়াবহ গরমেও এতবার বিদ্যুৎ যায়নি। কিন্তু এবার একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে টানা দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা আসে না।

বিজ্ঞাপন

একই শহরের কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা আবীর ঘোষ সারাবাংলাকে বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে চাপ পড়ছে আইপিএস জেনারেটরে। বেশিক্ষণ সাপোর্ট দিতে পারছে না।’

বিতরণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি সংকট ও মেরামতের কারণে আরও বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমে গেছে, যে কারণে বাড়ছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩১ হাজার ৫২০ মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় গত ৩০ এপ্রিল। জানা গেছে, বর্তমান সময়ে দেশজুড়ে বেশ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।

বিতরণ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আবার জ্বালানি সংকটের কারণে ছয় হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। সেই হিসাবে দৈনিক প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি হচ্ছে। ফলে লোডশেড করে ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্তত তিন জেলায় বিদ্যুৎ যোগান দেওয়া দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটই উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। জানা গেছে, সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিটের ওয়েলপাম্প নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, ওভারহোলিং কার্যক্রমের জন্য গত দুই বছর ধরে ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ইক্যুইপমেন্ট ফেল করার কারণে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা ইউনিট ফের চালু করতে দুই সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে।’

এখানকার উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে অন্তত তিনটি জেলায় সরবরাহ করা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রটি বন্ধ থাকার কারণে ২৮০ থেকে ২৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাবে। ফলে এই পরিমাণ বিদ্যুতের লোডশেডিং দিতে হবে।’

একদিকে গরম, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিনকে সচিবালয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।’

সারাবাংলা/জেআর/পিটিএম

তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র দেশ জুড়ে বন্‌ধ বড়পুকুরিয়া লোডশেডিং

বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ

ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের আহ্বান বিএনপির
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪৫

সম্পর্কিত খবর