Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the all-in-one-seo-pack domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the cps domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the sarabangla4 domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
অর্থনীতির মূলস্রোতে কালো টাকা
Monday 12 Oct 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অর্থনীতির মূলস্রোতে কালো টাকা

রজত রায়
১০ জুন ২০২৪ ১৭:৩৪

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্থ্য সেনের মতে, সভ্যতার গোড়া থেকেই সাদা ও কালো টাকা পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলেছে, যা পৃথিবীর সব দেশেই কম বেশি রয়েছে একটি সীমা রেখার মধ্যে। যেমন- পশ্চিমা বিশ্বে, মধ্যম আয়ের দেশ লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার কিছু দেশে যেখানে অফশোর হিসাব বলে একটি কার্যক্রম প্রচলিত আছে। যেখানে বিশেষায়িত অঞ্চলে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে কোনো প্রশ্নের মোকাবেলা করতে হয় না। যা অর্থনীতিতে একটি বৃহৎ অংশ দখল করে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শন করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার নৈতিকতা এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চমূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বৈশি^ক সংকট, ডলার সংকট, ব্যবসা-বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে মন্দা এবং অন্যান্য বৈশি^ক অনিশ্চিয়তায় সরকারের ব্যয় চাহিদা বেড়ে গেছে। এই কারণে রাজস্ব আহরণের বৃদ্ধি ও প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। অপ্রদর্শিত আয় মূল ধারায় নিয়ে আসার প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে কর সুবিধার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুবিধা দিলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নে সাহায্য করবে। অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা যতদিন প্রদর্শিত না হবে ততদিন অর্থনীতি মূলধারার গতি স্তিমিত হবে।

বিজ্ঞাপন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের গবেষণাপত্র “Underground Economy of Bangladesh an Econometric analysis” অনুযায়ী ২০০৯ সালে দেশের অর্থনীতিতে ৬২.৭৫ শতাংশ কালো টাকা ছিল। যার পরিমাণ ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। যা ২০১৪-১৫ সালের জাতীয় বাজেটের দ্বিগুনেরও বেশি। কালো টাকা বা করবহির্ভূত আয় হচ্ছে কোন ব্যক্তি যখন আয় কর দিতে গিয়ে কোন আয় জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে অর্ন্তভূক্ত করেন না, তখনই তা কর বহির্ভূত আয় হয়। আয় কালো নয় কিন্তু সেই আয়ের উপর কর দেয়া হয়নি। নিয়ম মতো এটি কর বহির্ভূত আয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে প্রায় ১৮ হাজার ২২০ কোটি টাকা অপ্রদর্শিত আয় প্রায় ৯ শত ৫০ কোটি টাকা কর দিয়ে বৈধ করেছেন ৭ হাজার ৪৪৫ জন করদাতা। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ২০ হাজার ৬০০ কোটি অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা সাদা হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার করদাতা এই টাকা সাদা করেছেন। সব মিলিয়ে সরকার কর পেয়েছে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। কালো টাকা সাদা করার তালিকায় আছেন চিকিৎসক, সরকারি চাকুরীজীবি, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক, ব্যাংকের উদ্যোক্তা মালিক, স্বর্র্ণ ব্যবসায়ীসহ আরো অনেকে। তবে ধনীরাই বেশি টাকা সাদা করেছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, সব শ্রেণি পেশার মানুষই কালো টাকা সাদা করেছেন। ২০২০-২১ অর্থবছরের যে পরিমাণ কালো টাকা সাদা হয়েছে তার মধ্যে পুঁজিবাজারে ২৮২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও আবাসন খাতে ২ হাজার ৫১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা সাদা হয়েছে। তথ্য অনুসারে, ১৯৭১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অপ্রকাশিত আয়ের প্রায় ৩০ হাজার ৮২৪ কোটি টাকার হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা কর আদায় হয়েছে। করোনার কারণে বিদেশের সাথে সংযোগ সেভাবে হয়নি বা ব্যাহত হয়েছে। সে কারণে এ টাকা গুলো দেশের বাহিরে চলে যাওয়ায় বা অপ্রদর্শিত রাখা সম্ভব হয়নি অনেকের পক্ষে। তারাই দেশে বিশেষ সুবিধা নিয়ে টাকা গুলো সাদা করার সুযোগ নিয়েছে।

করোনা কালে শিল্পে বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি বরং, ভোগ চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, নয়তো টিকে থাকতে কর্মী ছাটাই করেছে। এ অবস্থায় শিল্পের চাকা সচল রাখতে ও কর্মসংস্থান বাড়াতে উৎপাদনশীল খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়েছিল। আয়কর অধ্যাদেশের নতুন ধারা (১৯) অনুযায়ী, দেশের সব স্থানে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করার সুযোগ ছিল। এজন্য ১০ শতাংশ কর প্রদান করে সরাসরি ঘোষণা নিয়ে বৈধ করেছেন ২ হাজার ২৫১ জন করদাতা। যার পরিমাণ হলো ১ হাজার ১২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

বর্তমানে আয়কর আইন অনুযায়ী, যে কোনো করদাতা সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ কর দিয়ে এর সঙ্গে ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিতে পারে। তবে অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ রয়েছে। যে কোনো সংস্থা চাইলে পরবর্তী সময়ে ঐ টাকার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু ব্যক্তি নয় প্রতিষ্ঠানও অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আয়কর আইন-২০২৩ বা অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন আ্য়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তির কোনো পরিসম্পদ অর্জনের উৎসের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না। যদি ঐ ব্যক্তি ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ এর মধ্যে ২০২৪-২৫ কর বর্ষে রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সময় ১৫ শতাংশ হারে কর দিয়ে রিটার্নে ঐ পরিসম্পদ দেখান। এছাড়াও জায়গা অনুপাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর ও জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত জমি, অ্যাপার্টমেন্ট প্রশ্নতীতভাবে বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশে কালো টাকা একটি অপ্রত্যাশিত বাস্তবতা । আইএমএফ-এর “Shadow Economics around the world, what did we learn over the last 20 years” শীর্ষক ২০১৫ সালে প্রকাশিত একটি দলিল মতে বাংলাদেশে কালো টাকা বা শ্যাডো ইকোনমির আকার হচ্ছে দেশটির মোট জিডিপির ২৭.৬০ শতাংশ। কালো টাকার কোন আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা নেই। সাধারণত কালো টাকা বলতে বুঝি হিসাবের খাতায় উল্লেখ না করে অর্জিত অর্থকে। যেমন একজন মালিক একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করলেন ১ কোটি টাকায়। তিনি চেকের মাধ্যমে পেলেন ৬০ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ৪০ লাখ টাকা পেলেন নগদে। এই ৪০ লাখ টাকা যদি তিনি প্রাপ্তির খাতে না প্রদর্শন করেন তবে ওই ৪০ লাখ টাকা হয়ে যাবে কালো টাকা বা আন-রেকর্ডেড মানি।

অধ্যাপক ফ্রিডরিখ স্নেইডার তার- “Shadow Economics all over the world new estimates for 162 countries from (1999-2007)” শীর্ষক সমীক্ষায় উল্লেখ করেন- কর প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে শ্যাডো মানি বা ব্ল্যাক মানি বিভিন্ন দেশে বেড়ে চলেছে। যে কারণে বিভিন্ন ব্যক্তি ও কোম্পানি আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে চলে যেতে পারছে।

অপ্রদর্শিত আয় কিভাবে তৈরি হয় এমন প্রশ্ন আমাদের অনেকের মনে জাগ্রত। বাংলাদেশে পেশাজীবিদের আয় যেমন- চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থাপত্যবিদ, শিক্ষক, এনজিও খাত কিংবা অনেক পেশায় চাকুরির বাইরেও পেশাগত চর্চার মাধ্যমে অর্থ আয় করেন বা সুযোগ আছে। যেমন- চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন, শিক্ষকরা বিশেষ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান, প্রকৌশলী বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী নকঁশা ও কাজ তদারকি করেন। এখন কোনো চিকিৎসক, শিক্ষক বা প্রকৌশলী যদি এ থেকে পাওয়া অর্থ আয়কর রিটার্নে না দেখান তা হলে সেটি কালো টাকায় পরিণত হয়।

সেবা খাত, ক্রয় খাতে যেমন নিষিদ্ধ পণ্যের ব্যবসা, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা এগুলো বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে নিষিদ্ধ। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি মাদক বিক্রি করে বা অস্ত্র বিক্রি করে অর্থ আয় করে তবে সেটি কালো টাকা আয়কর বিবরণীতে দেখানোর সুযোগ নেই। তারপর ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যায় প্রতিদিন দোকানে যে বিক্রি হয় এবং যে পরিমান লাভ হয় তার পুরোটা তারা প্রদর্শন করে না বলে অনেক টাকা অপ্রদর্শিত থেকে যায়। এটাকেও কালো টাকা বলা হয়।

অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা মূল ধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ কর সুবিধার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুবিধার মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার সুবিধা দেয়া হলে তা সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নে সাহায্য করবে।

লেখক: অর্থনীতি বিশ্লেষক

সারাবাংলা/এসবিডিই

অর্থনীতির মূলস্রোতে কালো টাকা মত-দ্বিমত রজত রায়

বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ

ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের আহ্বান বিএনপির
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪৫

সম্পর্কিত খবর