Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the all-in-one-seo-pack domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the cps domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260

Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the sarabangla4 domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/devsarabangla/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
চাটগাঁইয়া ঈদ উৎসব: নাচে-গানে শামিল হাজারও মানুষ
Sunday 11 Oct 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চাটগাঁইয়া ঈদ উৎসব: নাচে-গানে শামিল হাজারও মানুষ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৩ এপ্রিল ২০২৪ ২১:২৯

চট্টগ্রাম ব্যুরো: কেউ চড়েছেন ঘোড়ার গাড়িতে, কেউ-বা যন্ত্রচালিত নৌকায়। কেউ পরেছেন শাড়ি, কেউ ধুতি-পাঞ্জাবি পরে সেজেছেন লাঠিয়াল, বাউল, দইওয়ালা। আবার কারও সাজ মাথায় গামছা বেঁধে হাতে বৈঠা নিয়ে সাম্পান মাঝির, কেউ বা আবার সাপুড়ে। কারও কণ্ঠে গান, কারও কণ্ঠে স্লোগান।

এভাবেই শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে হাজারো মানুষ সমবেত হয়েছিলেন নগরীর লালদিঘী চত্বরে। ঈদুল ফিতরের আনন্দে বাড়তি মাত্রা দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজন করা হল ‘চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব’। নগর সংস্কৃতির আধিপত্যকে একপাশে রেখে এদিন নাচে-গানে, বর্ণাঢ্য আয়োজনে তুলে ধরা হল চট্টগ্রামের চিরায়ত সংস্কৃতিকে।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী তিনবছর ধরে ‘চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব’ নামে নতুন এই আয়োজন শুরু করে আসছেন। এ উৎসব এখন চট্টগ্রামের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলনের উৎসবে পরিণত হয়েছে।

শনিবার দুপুর থেকে উৎসবে যোগ দিতে নগরীর নানা প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ আসতে থাকে। বিকেল গড়াতেই তৈরি হয় উপচে পড়া ভিড়। তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনির মধ্যে একুশে পদকপ্রাপ্ত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এম এ মালেক উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। উদ্বোধকসহ অতিথিরা সবাই চট্টগ্রামের ভাষায় বক্তব্য দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য নুরুল আজিম রনি, কাউন্সিলর রুমকি সেনগুপ্তাও ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করে এম এ মালেক বলেন, ‘চট্টগ্রামের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। চট্টগ্রামের ইতিহাস আমরা যেন ভুলে না যায়। আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আমাদের এগিয়ে যাবার শক্তি। চাটগাঁইয়া উৎসবের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সবসময় বলেন- ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরাও বলি। আজ চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসবে সেটা আরেকবার প্রমাণ হয়েছে। উৎসবে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই শামিল হয়েছেন। আমাদের দেশে যখন প্রবারণা পূর্ণিমার সময় ফানুস ওড়ানো হয়, তখন সব সম্প্রদায়ের মানুষ তাতে শামিল হন। দুর্গাপূজার যে উৎসব হয়, তখনও সব সম্প্রদায়ের মানুষ শামিল হন। উৎসবে আমরা হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই মিলেমিশে একাকার।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতে আমাদের এদেশ রচিত হয়েছে। আমরা সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রচনা করেছি। এদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তির স্থান হবে না। কেউ সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের প্রতিহত করা হবে, সবসময় করেছি, ভবিষ্যতেও করবো।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আঁরা চাটগাঁইয়া নওজোয়ান, দইজ্জ্যার কূলত বসত গড়ি সিনাদি ঠেহাই ঝড়-তুয়ান। আমরাই বীর চট্টগ্রাম। কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই আমাদের কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী প্রতিবছর চাটগাঁইয়া ঈদ উৎসবের আয়োজন করেন। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

উদ্বোধনের পর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রা আবার লালদিঘী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন।

এরপর শুরু হয় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও লোকসঙ্গীত গবেষক নাসির উদ্দিন হায়দারের পরিচালনায় উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্ব। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার গানে-নাচে শিল্পীরা রাত পর্যন্ত মাতিয়ে রাখেন উৎসব মঞ্চ।

গান পরিবেশনায় ছিলেন, আঞ্চলিক গানের জনপ্রিয় শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, সঞ্জিত আচার্য্য, মরমী শিল্পী শিমুল শীল, পিয়ামণি, মোহাম্মদ হারুন, গীতা আচার্য্য, অনন্যা চৌধুরী নীলা, সুপ্রিয়া লাকী এবং আহসান হাবিব। এছাড়া সঞ্চারি নৃত্যকলা একাডেমি, অনুশীলন ও স্বরলিপি সংগঠনের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন।

কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী সারাবাংলাকে বলেন, ‘এবার ঈদ এবং পহেলা বৈশাখ মিলিয়ে লম্বা ছুটি। অনেকে আজ (শনিবার) বেড়াতে বের হয়ে আমাদের উৎসবে এসেছেন। আমরা সবাই মিলে যেন কিছু সময় উৎসবের আমেজে কাটাতে পারি, ঈদের আনন্দটা যেন সার্বজনীন হয় সেজন্য আমি এ আয়োজন শুরু করেছিলাম। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ভাষা ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার একটা প্রয়াসও এ আয়োজন। মাত্র তিনবছরের মধ্যে এ উৎসব ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ উৎসব এখন চট্টগ্রামের গণমানুষের উৎসবে পরিণত হয়েছে।’

সারাবাংলা/আরডি/এমও

ঈদ উৎসব চাটগাঁইয়া ঈদ উৎসব

বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ

ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের আহ্বান বিএনপির
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪৫

সম্পর্কিত খবর