সড়কে নারীর লাশ, পাশে শিশু— এসপিকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ
৩০ মে ২০২৪ ২০:১১
ঢাকা: নেত্রকোনার পূর্বধলায় গ্রামীণ সড়কে অজ্ঞাত নারীর (৩০) লাশ এবং পাশে দুই বছরের আহত শিশুর পড়ে থাকার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। নেত্রকোনার পুলিশ সুপারকে (এসপি) এ ঘটনার তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ২৫ জুন বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা ও তাকে সমাজসেবা অধিদফতরের ছোটমনি নিবাসে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন কমিশন। সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালককে কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে আগামী ২৫ জুন এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেয়।
কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ‘সড়কে পড়ে ছিল নারীর লাশ, পাশে দুই বছরের শিশু’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে আসায় কমিশন স্বপ্রণোদিত এ বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ করেছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগে বর্ণিত ভুক্তভোগীর পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করে অভিযোগের বিষয়ে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনকে অবহিত করার জন্য নেত্রকোনার পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও, অভিযোগে বর্ণিত শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা ও তাকে সমাজসেবা অধিদফতরের ছোটমনি নিবাসে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিশনকে অবহিত করার জন্য সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালককে বলা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, নেত্রকোনার পূর্বধলায় গ্রামীণ সড়কে পড়ে ছিল অজ্ঞাত নারীর (৩০) লাশ। কোলে ছিল দুই বছরের আহত এক শিশু। শিশুটিকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপজেলার বিশকাকুনি ইউনিয়নের কাছিয়াকান্দা গ্রামের কাঁচা সড়ক থেকে গত ২৯ মে সকালে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লাশের পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ বিষয়ে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবীর জানান, লাশের ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত নারী শ্রমিক হয়ে থাকতে পারেন। হাতের ফিঙ্গার প্রিন্ট কিছুটা অপরিচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। অন্যত্র খুন করে হয়তো এখানে লাশ ফেলে গেছে। শিশুটির বয়স আড়াই বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় পুলিশ হেফাজতে ময়মনসিংহে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে নেত্রকোনার পূর্বধলা থানায় যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, এখন পর্যন্ত অভিযোগে বর্ণিত ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো মামলা দায়েরও হয়নি। তবে ভুক্তভোগীর পাশে পাওয়া আহত আনুমানিক আড়াই বছর বয়সী শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সারাবাংলা/কেআইএফ/পিটিএম